আজ  সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪


করোনা রোগীর শ্বাসকষ্ট প্রশমনে ভেন্টিলেটর

  আফছার উদ্দিন লিটন:   |   আপডেট: ০৩:০৭ এএম, ২০২১-০৪-২৯    696

 

করোনা রোগীর শ্বাসকষ্ট প্রশমনে ভেন্টিলেটর ভেন্টিলেটর

এইতো কিছুদিন আগেও করোনাভাইরাসের স্বীকৃত কোনো ওষুধ আবিষ্কৃত না হওয়ায় গুরুতর অসুস্থ রোগীর শ্বাসকষ্ট প্রশমনে ভেন্টিলেটরই ছিল একমাত্র ভরসা। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও এখন ভেন্টিলেটর সংকটে ভুগছে, বাংলাদেশেও আমদানি নির্ভর এ যন্ত্রের যথেষ্ট অপ্রতুলতা রয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির মোকাবেলায় হাসপাতালগুলোতে যথেষ্ট সংখ্যক ভেন্টিলেটর সরবরাহ করার জন্য বিশ্বের বহু দেশের সরকার এখন প্রচন্ড চাপের মুখে রয়েছে। যেসব রোগীর সংক্রমণ খুবই মারাত্মক তাদের জীবনরক্ষায় ভেন্টিলেটর খুবই কার্যকর এক যন্ত্র। যেসব রোগীর শ্বাস-প্রশ^াসে  সমস্যা হয়, গলাব্যথা, নিউনোমিয়ার প্রকোপ বেড়ে যায়, রোগীর জীবন যখন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে, তখন তার জন্য ভেন্টিলেটর ব্যবহার করা জরুরি। বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসের রোগীর চিকিৎসায় চিকিৎসকরা ভেন্টিলেটর ব্যবহারের কথা বলছেন।

ভেন্টিলেশন: অনেক সময় রোগ জটিলতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছলে দেখা যায় রোগী নিজে থেকে শ্বাস নিতে পারছেন না। তাঁর শ্বাসযন্ত্র ঠিকঠাক কাজ করছে না। রেসপিরেটরি ফেলিওর হচ্ছে। তখন কৃত্রিম উপায়ে বাইরে থেকে মেশিনের সাহায্যে শ্বাস-প্রশ^াস চালু রাখার চেষ্টা করা হয়। আর সেটাই হলো ভেন্টিলেশন। নানা ধরনের ভেন্টিলেশন যন্ত্র দিয়ে এই কাজটা করা হয়।

 


ভেন্টিলেটর : ভেন্টিলেটর হলো ‘লাইফ সেভিং ডিভাইস’। একে বলা হয় সাপোর্টিভ চিকিৎসা। আর যে যন্ত্রের সাহায্যে এ চিকিৎসা দেয়া হয়, সেটি হল ভেন্টিলেটর। ভেন্টিলেটর এমন একটি যন্ত্র, যার মাধ্যমে চিকিৎসকরা কোভিড-১৯ বা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীকে শ্বাস-প্রশ^াস স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেন। ফুসফুসের কার্যকারিতা কমে গেলে, এই যন্ত্র সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে রোগীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। বিশেষ এই অবস্থাকে অনেক ক্ষেত্রে লাইফ সাপোর্টে রাখাও বলে। ফুসফুস যখন শরীরে অক্সিজেন প্রবেশ ও বের করতে ব্যর্থ হয়, তখন ভেন্টিলেটর মেশিনের মাধ্যম কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন সরবরাহ করে রোগীকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। সাধারণত টার্মিনাস স্টেজেই ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। মানুষের ধারনা, ভেন্টিলেশন শুরু হলে রোগীর আর ফেরার সম্ভাবনা নেই। তবে একথা ঠিক যে ভেন্টিলেশনে থাকলেই সব রোগীর ভালো হবে ওঠার নিশ্চিন্ত আশ্বাস নেই। সবসময় শেষরক্ষা করা যায় না। কিন্তু, সঠিক রোগের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে ভেন্টিলেশন চালু হলে রোগী সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। ভেন্টিলেটর রোগী যখন জটিল পরিস্থিতিতে থাকে, তখন তার শরীরে সার্বক্ষণিক বাতাস প্রবেশে সহায়তা করে। সহজভাবে বললে, রোগীর ফুসফুস যদি কাজ না করে তাহলে রোগীর নিঃশ্বাস-প্রশ^াসের কাজটা ভেন্টিলেটর করে দেয়। এর মাধ্যমে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে এবং পুরোপুরিভাবে সেরে উঠতে রোগী হাতে কিছুটা সময় পান।


ভেন্টিলেটরের ব্যবহার কখন থেকে শুরু হয়: এর ব্যবহার বহুদিন ধরেই ছিল। তখন পোস্ট অপারেটিভ রিকভারির জন্য বুকের চারপাশে নেগেটিভ প্রেশার দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। পরবর্তীকালে ১৯৫২ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে পজিটিভ প্রেশারের মাধ্যমে নতুনভাবে চিকিৎসা শুরু হয়। সে সময় ডেনমার্কে পোলিও মায়োলাইটিসের প্রকোপে মহামারি দেখা গেলে চিকিৎসকেরা আর্টিফিশিয়াল এয়ারওয়ে টিউবের সাহায্যে বহু রোগীকে সুস্থ করে তোলেন। তখন থেকেই চিকিৎসক মহলে দুটি ধারণা তৈরি হয়। ১. অপারেশন ছাড়াও অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রেও ভেন্টিলেটর প্রয়োগ করা যেতে পারে। ২. এখন থেকে নতুন ধরনের কৃত্রিম পজিটিভ প্রেশার ভেন্টিলেশনের সময় দেয়া সম্ভব। এভাবেই পজিটিভ ভেন্টিলেশনের ব্যবহার শুরু হয়। বিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এর সিস্টেম, ব্যবহার ইনফাস্ট্রাকচার সবেতেই উন্নতি হয়েছে।


বাংলাদেশে ভেন্টিলেটরের   ব্যবহার কখন থেকে শুরু হয়: এর সঠিক তথ্য আইইডিসিআর এবং বিশ^কোষে নেই। মোটামুটি ১৯৬৬ সাল থেকে ভারতে পজিটিভ প্রেশার ভেন্টিলেশন চালু হয়। সর্বপ্রথম তৎকালীন বোম্বে বর্তমান মুম্বাইতে এর ব্যবহার করা হয়। সেখান থেকে দিল্লি এবং পুনায় এর ব্যবহার শুরু হয়। পরবর্তীকালে কলকাতায় চিকিৎসকেরা পজিটিভ প্রেশার ভেন্টিলেশন নিয়ে কাজ করতে থাকেন। এক সময়ে দেখা যায়, বিশেষ বিশেষ রোগের ক্ষেত্রে এনাসথেটিস্ট ছাড়াও ভেন্টিলেশন নেয়া সম্ভব হচ্ছে।
ভেন্টিলেশনের প্রকারভেদ: মূলত দু’ধরনের ভেন্টিলেশন দেখা যায়। ১. ইনভেসিভ ২. নন-ইনভেসিভ। ইনভেসিভ ভেন্টিলেশনে একটি কৃত্রিম এয়ারওয়ে টিউব ব্যবহার করা হয়। এটি ফুসফুসের ভিতরে পাম্প দিয়ে রোগীক শ্বাস নিতে সাহায্য করে। নন ইনভেসিভ হলে এই ধরনের কোনো টিউব থাকেনা। মাস্কের সাহায্যে রোগী কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস নিয়ে থাকেন। আমাদের দেশে নন-ইনভেসিভ ভেন্টিলেশনের ব্যবহার কখন থেকে শুরু হয় তার সঠিক তথ্য আইইডিসিআর এবং বিশ^কোষে না থাকলেও ভারতে ১৯৯০ সাল থেকে নন ইনভেসিভ পদ্ধতির ব্যবহার শুরু হয়।


ভেন্টিলেটরের কাজ কী :
করোনাভাইরাস রোগীর ফুসফুস বিকল করে দেয়। রোগীর ফুসফুস যদি কাজ না করে তাহলে রোগীর শ্বাস-প্রশ^াসের কাজটা ভেন্টিলেটর করে দেয়। দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যখন ব্যাপারটা টের পায় তখন রক্তের শিরা-উপশিরাগুলোকে বেশি করে খুলে দেয়-যাতে রোগ প্রতিরোধকারী কণিকাগুলো আরও বেশি হারে ফুসফুসে ঢুকতে পারে। কিন্তু এর ফলে ফুসফুসের ভেতরে পানি জমে যায়, তখন রোগীর শ্বাস-প্রশ^াসে সমস্যা শুরু হয়। এবং দেহে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়। এই সমস্যা দূর করার জন্য যান্ত্রিক ভেন্টিলেটর ব্যবহার করা হয়। এটি চাপ দিয়ে ফুসফুসে বাতাস ঢোকায় এবং দেহে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়। ভেন্টিলেটরে একটি হিউমিডিফায়ারও থাকে। এর কাজ হলো রোগী দেহের তাপমাত্রার সাথে মিল রেখে বাতাস এবং জলীয় বাষ্প ঢোকানো। ভেন্টিলেটর ব্যবহারের সময় রোগীকে এমন ওষুধ দেয়া হয় যাতে তার শ্বাসযন্ত্রের মাংসপেশিতে কোন উত্তেজনা না থাকে। হাসপাতালের ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিউ)-তে যেসব রোগীকে নেয়া হয় তাদের জন্য যান্ত্রিক ভেন্টিলেটর ব্যবহার করা হয়, যা দিয়ে দ্রুত দেহের অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়া যায়।
ভেন্টিলেটর দু’ভাবে কাজ করে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশন এবং নন ইনভেসিভ ভেন্টিলেশন। মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনে একটি পাইপের মধ্যে টিউব যুক্ত করা থাকে, ওই পাইপটি রোগীর মুখে বা গলার কোনো অংশ দিয়ে প্রবেশ করানো হয়। পরে ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে বাতাস রোগীর দেহে যেন প্রবেশ ও বের হতে পারে, সে ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে, করনোভাইরাস রোগীদের সেবায় এক ধরনের হুডের ব্যবহারও এখন জনপ্রিয় হচ্ছে-যেখানে ভালভের মাধ্যমে অক্সিজেন দেয়া হয়। এগুলোকে বলা হয়  ‘নন-ইনভেসিভ’ ভেন্টিলেশন। এতে রোগীর দেহে কোন টিউব ঢোকাতে হয় না। নন ইনভেসিভ ভেন্টিলেশনে রোগীর মুখে অথবা নাকে একটি মাস্ক সংযুক্ত করে শ্বাস-প্রশ^াস প্রক্রিয়া ঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়।


করোনায় সকল রোগীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় ভেন্টিলেটর: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রায় ৮০% করোনাভাইরাস রোগী হাসপাতালের চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু প্রতি ছয়জন রোগীর মধ্যে একজন গুরুতরভাবে অসুস্থ হতে পারেন, এবং তাদের নিঃশ্বাস-প্রশ^াসে  জটিলতা দেখা দিতে পারে।
ভেন্টিল্টের নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত: বিশেষজ্ঞদের মতে,বেশিরভাগ কোভিড-১৯ রোগীর আসলে হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তাদের ভেন্টিলেটরও লাগে না। এই ধরনের রোগীকে বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা করানো যায়।

ভেন্টিলেটর ব্যবহারে রোগীর সুবিধা: রোগীর শ্বাসযন্ত্র শিথিল থাকলে ভেন্টিলেটরের কাজ করতে সুবিধে হয়। রোগীর শ্বাস-প্রশ^াসের কষ্ট দূর করে, ফুসফুসের মাংসপেশিকে শিথিল করে। রোগীকে সেরে উঠতে সময় দেয়। শ্বাস-প্রশ^াস প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক হতে সহায়তা করে। রোগীর শরীরে নির্মল অক্সিজেন প্রবেশ করা ও কার্বন ডাইঅক্সাইড বের করতে ভূমিকা রাখে। রোগী যখন জটিল পরিস্থিতিতে থাকে, তখন তার শরীরে সার্বক্ষণিক বাতাস প্রবেশে সহায়তা করে।


ভেন্টিলেটর ব্যবহারে রোগীর অসুবিধা: ভেন্টিলেটরের মাস্কের ছোট্ট ফুটো থাকলেও তা দিয়ে রোগীর ড্রপলেটস বের হয়ে অন্যদের আক্রান্ত করতে পারে। টিউবের মাধ্যমে ফুসফুসে অন্য রোগ সংক্রমণ হতে পারে। অনেক সময় ভেন্টিলেটর ফুসফুসের ক্ষতির কারণও হতে পারে। ভেন্টিলেটর অনেক ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যুও ঘটাতে পারে।

ভেন্টিলেটর কোন রোগীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য: কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের অর্ধেকের বেশিই জ্বর, মাথাব্যথা, কফ এমন সাধারণ উপসর্গে ভোগেন। তাদের জন্য ভেন্টিলেটরের প্রয়োজন নেই। তবে যাদের আগে থেকেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, ফুসফুসের জটিলতাসহ জটিল রোগে ভুগছেন, তাদের জন্য ভেন্টিলেটর প্রয়োজন হয়। কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে সেরে ওঠেন। নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানা গেছে, চীনে ১০৯৯ জন কোভিড-১৯ রোগীর মধ্যে মাত্র ৪১.৩ শতাংশ রোগীকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। সেসব রোগী হাসপাতালে গড়ে ১২ দিন ছিলেন।
তবে, মেডিকেল, সার্জিক্যাল, গাইনিসহ যেকোনো রোগের জটিলতা ডেডলাইনে পৌঁছে গেলেই ভেন্টিলেশনের কথা ভাবা হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু রোগের প্রকোপ বেশ মারাত্মক। চোট, আঘাত, সড়ক দুর্ঘটনা থেকে ব্রেন স্ট্রোক, ট্রমার মতো জটিল উপসর্গ দেখা গেলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। কখনো দেখা যায়, বিশেষ আঘাত থেকে ইনফেকশন হয়ে রোগীর গোটা শরীর সেপসিস আক্রান্ত হয়েছে। অনেক সময় বিষ খেলে, বিষধর সাপ কামড়ালে রক্তে অতিরিক্ত বিষক্রিয়া দেখা যায়। হার্ট এটাক, মেজর সার্জারি, ক্যানসার থেকেও জটিলতা বেড়ে যায় এমন রোগীর ক্ষেত্রেও ভেন্টিলেটর প্রয়োজন। এছাড়া ক্রনিক নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, মেজর চেস্ট ইনফেকশন হলেও নানান সমস্যা হতে পারে। গর্ভাবস্থায় বহু মহিলার হাই প্রেশারের প্রবণতা দেখা যায়। একে একল্যাম্পশিয়া বলে। এই সময় তাঁদের ব্রিডিং ডিজঅর্ডার বা রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা তৈরি হতে পারে। এই ধরনের রোগযন্ত্রণা মাত্রাতিরিক্ত হয়ে উঠলে রোগী বিভিন্ন উপসর্গের শিকার হন। তখন একনাগাড়ে অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট অথবা রেসপিরেটরি ফেলিওর হলে চিকিৎসক ভেন্টিলেশনের কথা ভাবেন।


কখন রোগীকে ভেন্টিলেশন দেয়া প্রয়োজন: একেবারে টার্মিনাল স্টেজে পৌঁছলেই রোগীকে ভেন্টিলেশন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সাধারণত হাসপাতালে সর্বমোট বেডের ১০ শতাংশ ভেন্টিলেশনের জন্য বরাদ্দ থাকে। এর মধ্যে রোগীর তেমন জটিল উপসর্গ দেখা গেলে সবার আগে রেসপিরেটরি ফেলিওরের মতো পরীক্ষা করা হয়। সেরকম অসঙ্গতি পেলে ব্লাড গ্যাস এনালাইসিস করে ভেন্টিলেশনের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে হয়। তখনই স্পষ্ট হয়ে যায়, কোন রোগীর জন্য ভেন্টিলেশন অপরিহার্য। অনেক সময় রোগীকে দেখেই বোঝা যায়, তাঁর অবস্থা ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। তখন তাঁকে সরাসরি ভেন্টিলেশন দেয়া হয়। অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরে করা হয়। এইভাবে সঠিক পদ্ধতিতে ধাপে ধাপে এগুতে হয়। তাহলেই রোগীকে প্রকৃত প্রয়োজনে ভেন্টিলেশন দেয়া সম্ভব হবে।

ভেন্টিলেশন ব্যবহারের জন্য বয়স কি নির্ধারিত?

ভেন্টিলেশনের জন্য বয়স তেমন কোনো বিষয় নয়। জটিল উপসর্গ থেকে শ্বাসকষ্ট হলে শিশুদের অবধি এই চিকিৎসা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে ইদানীং অল্পবয়সি রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতিই এদের চটজলদি উপশমের কারণ। সরকারি হাসপাতালের জেনারেল আইসিউ বা সিসিউ’তে দেখা যায়, চল্লিশ বছরের উপরে রোগীর সংখ্যা প্রা ৬০-৭০ শতাংশ। তার মধ্যে আবার মোট বেডের মাত্র ১০ শতাংশ ভেন্টিলেশনের জন্য ছাড়া রয়েছে। যেখানে বেশিরভাগ রোগীই মুমূর্ষু। এঁদের বয়স পঞ্চাশ/ ষাটের উপর। তবে চল্লিশের কম বয়সি রোগী একেবারেই নেই এ কথা বলা যায় না।


ভেন্টিলেশন ব্যবহারের মাধ্যমে রোগীকে কি বাঁচানো যায়?  চিকিৎসকদের মতে, বেঁচে থাকার বিষয় রোগীর শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসার মান, পরিকাঠামো এবং পরিষেবার ধরনের উপর নির্ভর করে। এরপর দেখা হয় রোগীর বয়স, বর্তমান রোগ জটিলতা, শরীরে কোনোরকম ক্রনিক রোগের উপস্থিতি আছে কিনা। কোনো অর্গান ফেল করলে সেটি কত শতাংশ অকেজো হয়ে পড়েছে, তাও পরীক্ষা করাতে হয়। রোগী যদি ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, ইস্কিমিয়া, হাই ব্লাড প্রেশার, কিডনির সমস্যায় ভুগতে থাকেন, সেক্ষেত্রে চিকিৎসককে বাড়তি খেয়াল রাখতে হয়। এসবের উপরেই রোগীর সুস্থতা নির্ভরশীল। এই ধরনের লাইফ সেভিং সাপোর্ট নিয়ে অন্যান্য চিকিৎসায় সাড়া দিলে রোগী সুস্থ হয়ে যেতে পারেন। যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরিকল্পনামাফিক অপারেশন হলে রোগী সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
তবে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভেন্টিলেশনে থাকা রোগীকে একেবারেই বাঁচানো যায় না তাও কিন্তু সঠিক নয়। সাধারণত শেষ পর্যায়ে এসেই চিকিৎসক ভেন্টিলেশনের কথা ভাবেন। অনেক সময় দেখা যায়, এতকিছুর পরেও উপসর্গগুলি একেবারে টার্মিনাল স্টেজেই রয়েছে। যাবতীয় চেষ্টা সত্ত্বেও চিকিৎসা ফলদায়ক হচ্ছে না। সর্বোচ্চ ডোজের ওষুধ দিলেও হার্ট ঠিকঠাক কাজ করছে না। এমনকি মাঝে মধ্যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রোগী নিজে থেকে কোনোভাব শ্বাস নিতে পারছেন না। রোগী এক মাসের উপর কোমায় রয়েছেন, অথচ চিকিৎসায় ফলপ্রসূ হয়নি। এই সমস্ত লক্ষণ দেখা গেলে বেঁচে ওঠার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।
ভেন্টিলেশনে থাকা রোগীর খরচ: সরকারি হাসপাতালে ভেন্টিলেশনের জন্য কোনো খরচ নেয়া হয় না। বেসরকারি হাসপাতালে জায়গার খরচের পরিমাণে তারতম্য থাকতে পারে।


ভেন্টিলেটরের বিকল্প কি আছে? একিউট রেসপিরেটরি ডিস্ট্রেস সিনড্রোম (এআরডিএস) হলে রোগীর জীবনমরণ সমস্যা ঘনিয়ে আসে। এই সময়ে অন্যান্য শারীরিক জটিলতার সঙ্গে ক্রমাগত শ্বাসকষ্ট হতে থাকে। তখন এক্সট্রা কর্পোরিয়াল মেমব্রেন অক্সিজেনেশনে’র (ইকমো) মাধ্যমে শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের যোগান দেয়া হয়। আবার ‘ঊঈঈড়২ জবসড়াধষ ’বা এক্সট্রা কর্পোরিয়াল কার্বন-ডাই-অক্সাইড রিমুভাল পদ্ধতি প্রয়োগ করে অপ্রয়োজনীয় কার্বন ডাই অক্সাইড বের করে দেয়া হয়।

----- লেখক, সাংবাদিক ও গবেষক

 

রিলেটেড নিউজ

তরুণ প্রকাশকদের অংশগ্রহণে তিনদিনব্যাপী ‌‌প্রশিক্ষণ কর্মশালার সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন

চট্টলার ডাক ডেস্ক: তরুণ প্রকাশকদের অংশগ্রহণে তিনদিনব্যাপী ‌‌'সৃজনশীল প্রকাশনা খাত: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা' শীর্�...বিস্তারিত


মুসা (আ.) এর আমলে দীর্ঘদিন বৃষ্টি বন্ধ ছিলো!

মো. ইউছুফ চৌধুরী হযরত মুসা (আ.) এর আমলে দীর্ঘদিন যাবত বৃষ্টি বন্ধ ছিলো। তাঁর উম্মতরা তাঁর কাছে এসে বললো “ হে নবী, আল্�...বিস্তারিত


আল-আমিন হাসপাতাল (প্রা.) লিমিটেড

চট্টলার ডাক ডেস্ক: আল-আমিন হাসপাতাল (প্রা.) লিমিটেড ৮৩০, জাকির হোসেন রোড, একে খান মোড়, উত্তর পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম। ...বিস্তারিত


চট্টগ্রামের একে খান মোড়ে রাজমহল রেস্তোরাঁ এন্ড বেকার্সের উদ্বোধন

চট্টলার ডাক ডেস্ক: নগরীর একে খান মোড়ে সুপার রাজমহল রেস্তোরাঁ এন্ড বেকার্সের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছ। সোমবার, ২৯ �...বিস্তারিত


আমি মহান মুক্তিযুদ্ধে ২ নং সেক্টরে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছি

আফছার উদ্দিন লিটন: অধ্যক্ষ শামসুদ্দিন আহমেদ। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধ...বিস্তারিত


ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল আমরা পদে পদে টের পাচ্ছি

আফছার উদ্দিন লিটন ও এলেন ভট্টাচার্য অনিক লায়ন একে জাহেদ চৌধুরী। চট্টগ্রামের নাজিরহাট পৌরসভার মেয়র। অত্যন্ত বিনয়ী এবং সাংস্কৃতিকবান্ধব এ�...বিস্তারিত