আজ  বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


কৃষি কাজে দিনে ৪০ হাজার রুপি আয় করছেন

  চট্টলার ডাক ডেস্ক:   |   আপডেট: ০১:৫০ এএম, ২০২১-০৪-১৫    528

 

কৃষি কাজে দিনে ৪০ হাজার রুপি আয় করছেন

অভিষেক ধাম্মার। ইঞ্জিনিয়ারিং পেশা ছেড়ে কৃষি কাজ করছেন। আর তাতেও সফল  তিনি । এই ইঞ্জিনিয়ার কৃষিকাজ করে এখন ৪০ হাজার রুপি আয় করছেন।

 সাধারণত চাষি বলতে যে ছবি আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে তা এরকম নয়। এ কৃষক টি-শার্ট, ট্রাউজার আর স্নিকার পরা। একারণে তাকে মোটেই চাষির আওতায় ফেলা যায় না। কিন্ত বাস্তবে তিনি চাষিই। ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে পাওয়া চাকরি ছেড়ে চাষ করে তিনি কত আয় করছেন ৪০ হাজার  রুপি।

    
   ভারতের দিল্লির পাল্লা গ্রামে জন্ম অভিষেক ধাম্মার। তার বাবাও চাষি। পারিবারিক ২৫ একর জমিতে তিনি চাষ করতেন। কিন্তু অভিষেকের স্বপ্ন অন্য ছিল। ছোট থেকেই তিনি চাষবাসের বিরোধী ছিলেন।

    
    ২০১৪ সালে ইলেক্ট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। অভিষেকের বাড়িতে চাষবাসের চল রয়েছে। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে চাষ! একেবারেই পছন্দ ছিল না তার। তার কাছে চাষাবাদের অর্থ ছিল ঘণ্টার পর ঘণ্টার মাঠে রোদের মধ্যে পরিশ্রমের কাজ। এবং প্রচুর পরিশ্রমের বিনিময়ে যৎসামান্য কিছু অর্থ। কখনো তা আবার বিনিয়োগের থেকেও কম হতে পারে।

    
    বাবার কৃষিকাজে কোনো সাহায্যই করবেন না, তা প্রথম থেকেই পরিবারকে ভালভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন অভিষেক। নিজের চাকরি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে সমস্ত পরিকল্পনাও করে ফেলেছিলেন।

    
  কী এমন ঘটল যে অভিষেক চাষাবাদে কৌতূহলী হয়ে পড়লেন? এবং একজন চাষি হয়ে গেলেন? এর সূত্রপাত ২০১৪ সালে, স্নাতক হওয়ার ঠিক পড়েই।

    
    চিরকালই নিজের স্বাস্থ্য সম্বন্ধে ভীষণ সচেতন অভিষেক জিম শুরু করার পর ক্রমে বুঝতে শুরু করেন, সুস্থ থাকার জন্য সঠিক পুষ্টির কতটা প্রয়োজন। তার ডায়েট কীভাবে স্বাস্থ্যকর হয়ে উঠবে, তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা শুরু করে দেন। খাবারে কীটনাশকের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক এড়ানোর জন্য প্রথমে একটা ছোট বাগান করেন।

    

    যমুনা নদীর তীরে তাদের ছোট একটা জমি ছিল। ঠাকুরদা সেখামে মন্দির করে দিয়েছিলেন। নদীর তীরে হওয়ায় জমির উর্বরতাও খুব বেশি ছিল। নিজেদের চাষাবাদের বিশাল জমির দিকে না গিয়ে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে এই জমিতেই নিজের জন্য জৈব চাষ করতে শুরু করে দেন। কারণ সঠিক প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা ছাড়া পারিবারিক ২৫ একর জমিতে জৈব চাষে ভরসা পারছিলেন না তিনি।

   
   এক বছর পর যে ফলন তিনি পেলেন, তার সঙ্গে স্বাদে, রঙে বাজারে বিক্রি হওয়া ফসলের বিস্তর ফারাক নিজের চোখেই দেখতে পেলেন। সঙ্গে জৈব চাষের অভিজ্ঞতাও হল। এরপর তিনি পারিবারিক ২৫ একর জমিতে জৈব চাষ করা শুরু করলেন। বাড়িতে জৈব সার বানিয়ে ফসল ফলানো শুরু হল।
    
    রোজ ১৫-২০ মিনিট মাত্র লাগে গাছে পানি দিতে তার। সম্পূর্ণ জৈবিক পদ্ধতিকে ফসল ফলিয়ে যাচ্ছেন এই ইলেক্ট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ার। জমিতে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টও লাগিয়েছেন। জমির সমস্ত বর্জ্য দিয়ে বায়োগ্যাস তৈরি করেন এবং সেই গ্যাসেই বাড়িতে রান্না হয়। ইঞ্জিনিয়ার থেকে চাষি হয়ে কতটা সুফল পেলেন?

    
    স্বাস্থ্য আর অর্থ দুটোই এক সঙ্গে পেয়েছেন অভিষেক। প্রতিদিন এখন ৪০ হাজার রুপি উপার্জন তার। এতদিন যে পেশাকে এড়িয়ে চলতেন, এখন সেটাই তার কাছে গর্বের, জানাচ্ছেন অভিষেক।

 

 

রিলেটেড নিউজ

আইডিএফের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ইউনিটের ঘরোয়া বৈঠক

আফছার উদ্দিন লিটন: আইডিএফ ( ) কৃষি কর্মসূচির আওতায় বেতবুনিয়া শাখার অধীনে আদর্শ গ্রাম কেন্দ্রে সম্প্রতি এক প্রাণবন্ত&nbs...বিস্তারিত


মমতা সঞ্চয় ও ঋণদান কর্মসূচির বিগত বছরের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা

আফছার উদ্দিন লিটন: মমতা সঞ্চয় ও ঋণদান কর্মসূচির বিগত বছরের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান-বিডিপি অগ্রগতি পর্যালোচনা সভà...বিস্তারিত


অযত্ন, অবহেলায় পাহাড়তলী সিসিএস অফিস

আফছার উদ্দিন লিটন: পাহাড়তলী সিসিএস কার্যালয় সংস্কার না হওয়ায় অফিসের সামনে ময়লার স্তূপ। এছাড়া দরজার উপরে থাকা কর্মকর...বিস্তারিত


রেলের সিসিএস কার্যালয়ের সামনে ময়লা অপসারণ না হওয়ার কারণ কী?

আফছার উদ্দিন লিটন: বাংলাদেশ রেলওয়ের পাহাড়তলী প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিসিএস) কার্যালয় সংস্কার হওয়ার কথা থাকলেও সং...বিস্তারিত


রেলের জায়গায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ 

আফছার উদ্দিন লিটন: রেললাইন লাগোয়া ইস্পাহানী মার্শাল ফিল্ডের পশ্চিমকোণের আকিজ মটরস থেকে কৈবল্যধাম রেল স্টেশনের পেছà¦...বিস্তারিত


বউ নিয়ে রাজনীতি 

আফছার উদ্দিন লিটন: আরও কত কিছু দেশে দেখবো। করোনা নিয়ে রাজনীতি। বউ নিয়ে রাজনীতি। দ্রব্যমূল্য নিয়ে রাজনীতি। সব কিছু খোà...বিস্তারিত