শিরোনাম
চট্টলার ডাক ডেস্ক: | আপডেট: ০৭:৪৬ পিএম, ২০২৫-০৭-৩১ 289
২৭ জুলাই (রবিবার ) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমানের আদালতে এ সাক্ষ্য প্রদান করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের আইনজীবী এডভোকেট মো মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
আসামিরা হলেন-চট্টগ্রাম জাতীয় গৃহায়নের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা এম সাদেক হোসেন, মো. জানে আলম, মো. আজম খান ও শৈলেন চাকমা।
বিশেষ মামলা নং-৩৩/২২ এর চার্জশিটের ৩ নং সাক্ষি আফছার উদ্দিন লিটন। সাক্ষ্যগ্রহণে তিনি বলেন-- “ তাঁর পিতা আবদুল খালেক সরদারকে চট্টগ্রাম জাতীয় গৃহায়নের তৎকালীন গৃহ-সংস্থান অধিদপ্তর ১৯৭৭ সালের ১২ ডিসেম্বর ২৭৬৮ নং স্মারকে আট শতক জায়গা বার্ষিক ৫০ টাকা হারে অস্থায়ীভাবে বরাদ্দ প্রদানের জন্য চিঠি ইস্যু করে। ওই চিঠির আলোকে ১৯৭৮ সালের ১৭ জানুয়ারি ৫০ টাকা গ্রহণ করে অস্থায়ীভাবে বরাদ্দ প্রদান করেন।
পরবর্তীতে নতুন মনছুরাবাদে উল্লেখিত জায়গার প্লটের জন্য তাঁর পিতা ১৯৯০ সাালের ৯ আগস্ট ডাকযোগে রেজিস্টার্ড করে হাউজিং চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক ও বরাদ্দ কমিটি হাউজিং এস্টেট চট্টগ্রাম বরাবর সংযুক্তিসহ আবেদন করেন হাউজিং নীতিমালা অনুয়ায়ী স্থায়ীভাবে বরাদ্দ লাভের জন্য। সংযুক্তির মধ্যে ছিল অস্থায়ীভাবে ইজারানামা পত্র ও একখানা নকশা।
আসামিগণ চট্টগ্রাম জাতীয় গৃহায়ন কর্মকর্তা-কর্মচারিদের যোগসাজশে হাউজিং নীতিমালার বহির্ভূতভাবে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে গোপনভাবে তাদের পরিচিত এবং চট্টগ্রাম শহরের চিহ্ণিত ভূমিদস্যুদের বরাদ্দ প্রদান করেন। প্রকৃতপক্ষে অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, ৯,১০,১১ --এ তিনটি প্লটসহ বাকি ৮টি প্লট যারা বরাদ্দ লাভ করেছেন তারা সকলেই সত্যিকার নাম ও ঠিকানা গোপন রখে ভুয়া নাম ও ঠিকানা দিয়ে বরাদ্দ লাভ করেন। যা হাউজিং বরাদ্দপত্র নীতিমালার ৭,৮,৯ ও ১২ নং শর্তের পরিপন্থী।”
“তিনি আরও বলেন--আসামীগণ চট্টগ্রাম জাতীয় গৃহায়ন কর্মকর্তা-কর্মচারিদের যোগসাজশে ভুয়া আবেদনের মাধ্যমে ৯ নং প্লটের বরাদ্দ গ্রহণকারী ব্যক্তি দেখান অস্থিত্বহীন কাল্পনিক মুরাদ খানকে। আসামীগণ পরবর্তচীতে ট্টগ্রাম জাতীয় গৃহায়ন কর্মকর্তা-কর্মচারিদের যোগসাজশে চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মরত আসামী আজম খান ভুয়া পাওয়ার অব এটর্নি দলিল সৃজন করে অস্থিত্বহীন কাল্পনিক মুরাদ খান থেকে ভুয়া লিজ দলিল, ভুয়া রূপান্তর দলিল, ভুয়া হস্তান্তর দলিল করে এ মামলার অন্যতম অভিযুক্ত আলহাজ নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী সৈয়দা রওশন আরা’র কাছে জাল সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে এরা নিজেরাই একে-অপরকে ক্রেতা-বিক্রেতা দেখান।
মাননীয় আদালত আপনাকে জানাতে চাই--জাল বরাদ্দ গ্রহীতা মুরাদ খান কি ২নং আসামী আজম খানকে পাওয়ার অব এটর্নি দিতে পারে?
জাল বরাদ্দপত্র হলে ভুয়া পাওয়ার অব এটর্নি দলিল হলে আসামী আজম খান কীভাবে নাজিম উদ্দিনের স্ত্রীর কাছে জাল হস্তান্তর দলিল, জাল রূপান্তর দলিল, জাল সাব-কবলা দলিল করে ক্রেতা-বিক্রেতা দেখান?
আসামীগণ চট্টগ্রাম জাতীয় গৃহায়ন কর্মকর্তা-কর্মচারিদের যোগসাজশে ভুয়া আবেদনের মাধ্যমে ১০নং প্লটের বরাদ্দ গ্রহণকারী ব্যক্তি দেখান অস্থিত্বহীন কাল্পনিক মিন আরা বেগমকে। আসামীগণ পরবর্তচীতে ট্টগ্রাম জাতীয় গৃহায়ন কর্মকর্তা-কর্মচারিদের যোগসাজশে চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মরত আসামী আজম খান ভুয়া পাওয়ার অব এটর্নি দলিল সৃজন করে অস্থিত্বহীন কাল্পনিক মিন আরা বেগম থেকে ভুয়া লিজ দলিল, ভুয়া রূপান্তর দলিল, ভুয়া হস্তান্তর দলিল করে এ মামলার অন্যতম অভিযুক্ত আলহাজ নাজিম উদ্দিনের কাছে জাল সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে এরা নিজেরাই একে-অপরকে ক্রেতা-বিক্রেতা দেখান!
এছাড়া মিন আরা বেগমের বয়স আমমোক্তারনামা দলিলে ৫৫ বছর এবং শপথনামাতে দেখানো হয়েছে ৪১ বছর।
মাননীয় আদালত আপনাকে জানাতে চাই--জাল বরাদ্দ গ্রহীতা মিন আরা বেগম কি ২নং আসামী আজম খানকে পাওয়ার অব এটর্নি দিতে পারে?
জাল বরাদ্দপত্র হলে ভুয়া পাওয়ার অব এটর্নি দলিল হলে আসামী আজম খান কীভাবে নাজিম উদ্দিনের স্ত্রীর কাছে জাল হস্তান্তর দলিল, জাল রূপান্তর দলিল, জাল সাব-কবলা দলিল করে ক্রেতা-বিক্রেতা দেখান?
আসামীগণ চট্টগ্রাম জাতীয় গৃহায়ন কর্মকর্তা-কর্মচারিদের যোগসাজশে ভুয়া আবেদনের মাধ্যমে ১১নং প্লটের বরাদ্দ গ্রহণকারী ব্যক্তি দেখান অস্থিত্বহীন কাল্পনিক লুৎফুন নাহারকে। আসামীগণ পরবর্তীতে চট্টগ্রাম জাতীয় গৃহায়ন কর্মকর্তা-কর্মচারিদের যোগসাজশে চার্জশিটের ৩নং আসামী জানে আলম ভুয়া পাওয়ার অব এটর্নি দলিল সৃজন করে অস্থিত্বহীন কাল্পনিক লুৎফুন নাহার থেকে ভুয়া লিজ দলিল, ভুয়া রূপান্তর দলিল, ভুয়া হস্তান্তর দলিল করে এ মামলার আসামী জানে আলমের কাছে জাল সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে এরা নিজেরাই একে-অপরকে ক্রেতা-বিক্রেতা দেখান ও দখলদার দেখান! এরপর আসামী জানে আলম ১৩৫৮ নং ভুয়া নামজারী দলিল করে তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ের নামে এ প্লটের জমি হস্তান্তর করেন।
এছাড়া লুঃফুন নাহারের বয়স আমমোক্তারনামা দলিলে ৩৫ বছর এবং শপথনামাতে দেখানো হয়েছে ৪৮ বছর।
মাননীয় আদালত আপনাকে জানাতে চাই--জাল বরাদ্দ গ্রহীতা লুৎফুন নাহার কি ৩নং আসামী জানে আলমকে পাওয়ার অব এটর্নি দিতে পারে?
জাল বরাদ্দপত্র হলে ভুয়া পাওয়ার অব এটর্নি দলিল হলে আসামী জানে আলম কীভাবে হস্তান্তর নেন? পরবর্তীতে আসামী জানে আলম জাল হস্তান্তর দলিল, জাল রূপান্তর দলিল, জাল সাব-কবলা দলিল করে এরা একে-অপরকে ক্রেতা-বিক্রেতা দেখান?”
দুদকের পিপি মজিবুর রহমান এবং এডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন তাঁকে প্রশ্নে করেন---আপনি কী চান?
এর জবাবে মূল বাদি আফছার উদ্দিন লিটন বলেন-“ তিনি ন্যায়বিচার চান। আসামীদের উপযুক্ত শাস্তি চান।
দুদকের পিপি মজিবুর রহমান তাঁকে প্রশ্ন করেন--আপনার পিতাকে কখনও ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে কিংবা এ সংক্রান্ত কোনো এওয়ার্ড দেয়া হয়েছে কিংবা এ সংক্রান্ত কোনো বিকল্প প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে কি?
এর জবাবে মূল বাদি আফছার উদ্দিন লিটন বলেন-“ তার পিতাকে প্লট সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি। এওয়ার্ড দেয়া হয়নি। এমনকি এ সংক্রান্ত বিকল্প প্লটও দেয়া হয়নি।
তাই মাননীয় আদালত ওর পিতাকে প্লট সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া হোক। ওর পিতা ক্ষতিগ্রস্ত হিসাবে এওয়ার্ড পাবে এওয়ার্ড দেয়া হোক। বিকল্প প্লট না পাওয়ায় বিকল্প প্লট দেয়া হোক “
আগামী তারিখ ২ সেপ্টেম্বর শুনানি এবং সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য আছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আসামিদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জাতীয় গৃহায়নের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশ্বে ফিরোজশাহ হাউজিং এস্টেটের অধীনে ৯, ১০ ও ১১ নম্বর প্লট পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করার অভিযোগ আনা হয়। এ ধরনের অভিযোগের অপরাধের মাধ্যমে আত্মসাতকৃত টাকার পরিমাণ তের লাখ বাইশ হাজার পাঁচশত টাকা উল্লেখ রয়েছে মামলার অভিযোগ পত্রে।
আসামি এম সাদেক হোসেন, শৈলেন চাকমা ১৯৯৯ সালের ৩ আগস্ট থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম জাতীয় গৃহায়নে কর্মরত থাকা অবস্থায় মো. জানে আলম, মো. আজম খান, আলহাজ নাজিম উদ্দিন ও আবুল কালাম আবুসহ অন্যান্য আসামিদের পরস্পরের যোগসাজশে দুর্নীতির মাধ্যমে জাল-জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ১০৯ ধারা এবং তৎসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ দুই নম্বর আইনের ৫(২)ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
আবেদনকারী আফছার উদ্দিন লিটনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আসামিদের বিরুদ্ধে জাতীয় গৃহায়নের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতি-অনিয়ম ও জাল-জালিয়াতি প্রমাণ হওয়ায় ২০১৮ সালের ১৯ মার্চ দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশনের ( দুদক) আইনজীবী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, আসামিরা চট্টগ্রাম জাতীয় গৃহায়ন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অস্তিত্বহীন, কাল্পনিক লুৎফন নাহার, মিন আরা বেগম ও মুরাদ খানের নামে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে ভুয়া আবেদনকারী সাজিয়ে বরাদ্দ পত্র লাভ করেন।
পরবর্তীতে চট্টগ্রাম জাতীয় গৃহায়নের কর্মকর্তা এম সাদেক হোসেন ও শৈলেন চাকমার যোগসাজশে আসামি মো. জানে আলম, মো. আজম খান এবং আলহাজ নাজিম উদ্দিন ভুয়া লিজ দলিল, রূপান্তর পত্র, হস্তান্তর পত্র ও পাওয়ার অব এটর্নি দলিল সৃজনের মাধ্যমে ভুয়া সিল ছাপ্পর-স্বাক্ষর করে নিজেরাই সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ করেন। এছাড়া আসামীগণের বরাদ্দপত্র,লীজ দলিল ও যাবতীয় জাল দলিলে একেক জায়গায় তাদের একেক রকম স্বাক্ষর। মিন আরা বেগমের বয়স আমমোক্তারনামা দলিলে ৫৫ বছর এবং শপথনামাতে দেখানো হয়েছে ৪১ বছর। লুৎফুন নাহারের বয়স আমমোক্তারনামা দলিলে ৩৫ বছর এবং শপথনামাতে দেখানো হয়েছে ৪৮ বছর।
এ বিষয়ে বাদি আফছার উদ্দিন লিটনের ব্যক্তিগত আইনজীবী এডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “ চট্টগ্রাম জাতীয় গৃহায়নের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে আসামীগণ ভুয়া আবেদনকারী সাজিয়ে ভুয়া বরাদ্দপত্র, ভুয়া লিজ দলিল, রূপান্তরপত্র, হস্তান্তর পত্র, ভুয়া সাব-কবলা দলির ও আমমোক্তার দলিল সৃজন করে নিজেরাই সিল ছাপ্পর মেরে স্বাক্ষর জাল করে সরকারি সম্পত্তি বিক্রি করে উক্ত টাকা আত্মসাৎ করেছেন।”
চট্টলার ডাক ডেস্ক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের বাজার সংযোগ ও টেকসই প্রদর্শনী ২০২৫ অনু...বিস্তারিত
আফছার উদ্দিন লিটন: মধু দাদা ডিকে ঘোষ মাঝে মাঝে হারায় হুশ, হাসি-খুশির স্বভাব দোষ অসৎ হলেও খাই না ঘুষ। তাং-২৭ জুলাই ২০২...বিস্তারিত
আশীষ সেন দংশনে আছে বিষ তবু, ভালোবাসা জমে থাক। পাথর প্রতিমা সেথা প্রাণ বহমান, সারাক্ষণ পূজা তোমার স্মৃতির ...বিস্তারিত
আফছার উদ্দিন লিটন: সামসু। এক রহস্যময় মানুষ! আজব মানুষ। ভবঘুরে। উদাস। দেশ-দুনিয়া নিয়ে তার কোনো চিন্তা নেই। ভাবনা নেই। ...বিস্তারিত
আফছার উদ্দিন লিটন: বিএনপি নেতারা প্রতিদিন নির্বাচন দেন দাবী করে কেন? তাদেরকে ষোল বছর শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের নেতা...বিস্তারিত
আফছার উদ্দিন লিটন: বিএনপি যে শুধু নির্বাচন নির্বাচন বলে পাগলের প্রলাপ করছে। ধরলাম এক কিংবা দেড় বছর পরে বিএনপি ক্ষমতা...বিস্তারিত
© Copyright 2026 Dainik Chattalar Dak