শিরোনাম
চট্টলার ডাক ডেস্ক: | আপডেট: ০৮:১৩ পিএম, ২০২৪-১০-১০ 326
মিজান সাহেব সরকারি কলেজের শিক্ষক। ছয় মাস ধরে উনার পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্ত যায়। সংকোচ করে কারো সাথে শেয়ার করেননি বা কোন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হননি। অবশেষে রক্তশূন্যতা সহ শারীরিক দূর্বলতা দেখা দিলে মিজান সাহেব ডাক্তারের কাছে যান। পরীক্ষার পর উনার পাইলস বা হেমোরয়েডস বা অর্শ রোগ ধরা পরে। সাধারণত পাইলস বা হেমোরেয়ডস, এনাল ফিসার বা গেজ, কোলন বা পায়ুপথের ক্যান্সার সহ আরও অনেক রোগে পায়খানার রাস্তায় রক্ত যায়। পায়ুপথের রোগের মধ্যে পাইলস বা অর্শ খুবই কমন একটি রোগ। আতংকিত না হয়ে একজন শল্যচিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগী পুরোপুরি সুস্থ হতে পারে।
মলাশয়ের নিচের অংশ বা মলদ্বারের শিরাগুলো ফুলে যাওয়াকেই পাইলস বা হেমোরয়েডস বলে। হেমোরয়েডস দু'ধরনের হয়, আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক। আভ্যন্তরীণ হেমোরয়েডস পায়ুপথ বা মলদ্বারের অভ্যন্তরে হয়ে থাকে। আভ্যন্তরীণ হেমোরয়েডসকে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ডিগ্রিতে ভাগ করা হয়। পাইলস বা হেমোরয়েডসকে অর্শরোগও বলা হয়।
হেমোরয়েডস হওয়ার পিছনে যেসব কারণগুলিকে দায়ী সেগুলি হল- কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া, স্থূলতা, বেশি সময় বসে থাকা, দীর্ঘসময় টয়লেটে বসে থাকা, হেমোরয়েড শিরায় কপাটিকার অনুপস্থিতি ও বার্ধক্য, পুষ্টিকর খাবার খাওয়ায় ঘাটতি, ব্যায়াম না করা, পেটের ভিতরে চাপ বৃদ্ধি, জন্মগত, গর্ভাবস্থায় জরায়ু বড় হওয়া। ফলে, কোলনের শিরায় চাপ পড়ে বলে শিরা স্ফীত হয়। যে কারণে পাইলস হয়। প্রথম দিকে ওষুধ ও সাবধানতা মেনে চললে এই রোগ সেরে যায়। তবে, জটিল আকার ধারণ করলে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে কাটাছেড়া রক্তপাতবিহীন লংগো, লেজার অপারেশনের সাহায্যে এ রোগের চিকিৎসা করা যায়।
পাইলস বা হেমোরেয়ডস এর লক্ষণসমূহ
ক) মলের সাথে রক্ত পড়া পাইলসের প্রধান লক্ষণ।
খ) সাধারণত এ রক্তপাত ব্যথাবিহীন।
গ) মলদ্বারের চারপাশে ফুলে যায় ও চুলকানি হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় ও সঠিক ট্রিটমেন্ট করলে কোনও অপারেশন ছাড়া কিছু নিয়মকানুন ও ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা সম্ভব। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ ডিগ্রি পাইলসের ক্ষেত্রে এবং কিছু জটিলতা দেখা দিলে অপারেশনের প্রয়োজন হয়।
কিছু পদ্ধতি সঠিকভাবে মেনে চললে এই রোগ প্রতিরোধ হতে পারে -
ক) পায়ুপথের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।
চ) প্রদাহ বা সংক্রমণের দ্রুত চিকিৎসা নিন।
ছ) প্রতিদিন প্রচুর আঁশযুক্ত সবজি, ফলমূল ও খাবার গ্রহণ করবেন। মাংস, কম আঁশ ও বেশি চর্বিযুক্ত খাবার, কড়া মশলা, ফাস্টফুড ইত্যাদি পরিহার করুন।
জ) বেশি করে জল পান করুন।
ঝ) কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা করুন। মলত্যাগে কখনও বেশি চাপ প্রয়োগ করবেন না, আটকে রাখবেন না।
ঞ) ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন। এছাড়া, নিয়মিত ব্যায়ামের ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে। তাই শরীরচর্চা করুন।
ডা. এস এম সরওয়ার, এমবিবিএস, এফসিপিএস (সার্জারি), এফএসিএস (আমেরিকা), সহকারী অধ্যাপক সার্জারি, জেনারেল, ল্যাপারোস্কপিক ও কলোরেক্টাল সার্জন, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ। পার্কভিউ হাসপাতাল লিমিটেড। পাচঁলাইশ, কাতালগঞ্জ, চট্টগ্রাম।
চট্টলার ডাক ডেস্ক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের বাজার সংযোগ ও টেকসই প্রদর্শনী ২০২৫ অনু...বিস্তারিত
আফছার উদ্দিন লিটন: মধু দাদা ডিকে ঘোষ মাঝে মাঝে হারায় হুশ, হাসি-খুশির স্বভাব দোষ অসৎ হলেও খাই না ঘুষ। তাং-২৭ জুলাই ২০২...বিস্তারিত
আশীষ সেন দংশনে আছে বিষ তবু, ভালোবাসা জমে থাক। পাথর প্রতিমা সেথা প্রাণ বহমান, সারাক্ষণ পূজা তোমার স্মৃতির ...বিস্তারিত
আফছার উদ্দিন লিটন: সামসু। এক রহস্যময় মানুষ! আজব মানুষ। ভবঘুরে। উদাস। দেশ-দুনিয়া নিয়ে তার কোনো চিন্তা নেই। ভাবনা নেই। ...বিস্তারিত
আফছার উদ্দিন লিটন: বিএনপি নেতারা প্রতিদিন নির্বাচন দেন দাবী করে কেন? তাদেরকে ষোল বছর শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের নেতা...বিস্তারিত
আফছার উদ্দিন লিটন: বিএনপি যে শুধু নির্বাচন নির্বাচন বলে পাগলের প্রলাপ করছে। ধরলাম এক কিংবা দেড় বছর পরে বিএনপি ক্ষমতা...বিস্তারিত
© Copyright 2026 Dainik Chattalar Dak